টেকনাফে  প্রথম বারোমাসি ‘সুইট বেবি তরমুজ চাষ

 ২০২১-০৪-০৯ ১০:২৬:৫০   বিভাগ: অর্থনীতি

তরুন উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করছে সুইট বেবী
শাহিন শাহ /ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী, নাফ বার্তা :
কক্সবাজার জেলায় সর্ব প্রথম ভিন্ন আকারে ও ভিন্ন পদ্ধতিতেই বারোমাসি ফল তরমুজের চাষ করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। তাও কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে প্রথম বারের মতো বারোমাসি সুইট বেবি জাতের তরমুজের এ চাষ করে আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। মোবাইলের ইউটিউব থেকে এ চাষ পদ্ধতি দেখে শখের বসে এ চাষ শুরু করেন মো. রুহুল কাদের রুবেল (৩৪)। পৈত্রিক নিবাস কতুবদিয়া বড়কূপ চাঁদমিয়াপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে তিনি।
আজ থেকে প্রায় চার বছর পূর্বে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে কাজের সুবাধে টেকনাফে চলে আসেন রুহুল কাদের। তখন থেকে জাদীমুরা বাজারে এফএনএফ মেডিকো নামের একটি ফার্মেসী ব্যবসা করছেন তিনি। স্ত্রী ও দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি জাদিমুরা এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। ফার্মেসীর বেচাকেনা নিয়ে সংসার চালান বা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ফার্মেসীর পাশাপাশি বা অবসর সময়ে এন্ড্রয়েট মোবাইল সেটে ইউটিউব দেখেন। তিনি ক্ষেত খামারের ভিডিওগুলো বেশি দেখেন। দেখা থেকে বাদ যায়নি তরমুজের ভিডিওগুলোও। সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ তাঁর বেশ পছন্দ হয়। শখের বসে তিনি নিজেই চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। যুবকের যেমন ইচ্ছে তেমন কাজ। জানুয়ারি মাসে জমির মালিকদের সাথে কথাবার্তা শুরু করে ৪ খানি অর্থাৎ ১৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে নেয়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মাঠে চারজন শৈমিক নিয়ে নিয়েই কাজ শুরু করেন ওই যুবক। সুইট বেবি নামের এই তরমুজ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এই মাস অর্থাৎ এপ্রিলের শেষের দিকে সুইট বেবি তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা খুব বেশি।
সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। যেখানে মাদকের ছড়াছড়ি ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা। দিন দিন অনেক যুবক বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন। আইন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় অনেকে কারাগারে রয়েছেন। সেখানে রুহুল কাদের নামের এই যুবক শখের বশে টেকনাফ উপজেলায় প্রথম সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বি হতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সময়টি ভালো কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। বিপথগামীদের এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজা লাগানো সূযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। হ্নীলা ইউনিয়নের দমিদমিয়া এলাকায় বর্গা জমিতে সুইট বেবি প্রজাতের তরমুজ চাষ করেন রুহুল কাদের রুবেল। ৬ এপ্রিল ভরদুপুরে তার সাথে তরমুজ ক্ষেতে কথা হয়। পেশাগত কারণে তার পৈত্রিকা নিবাস কুতুবদিয়া থেকে টেকনাফে চলে আসেন। ফার্মেসীর পাশাপাশি ইউটিউব থেকে দেখে শখের বসে এ চাষ শুরু করেন। তিনি জানান, এইচাষে পরিশ্রম হলেও সুবিধা রয়েছে। ভালো দামও হাকানো যায়। বারোমাসে এ ফলগুলো বাজারে পাওয়া যায় বিধায় এর কদর খুব বেশি। অন্যান্য প্রজাতির তরমুজ গুলো মৌসুম ভিত্তিক হলেও সুইট বেবি ভিন্ন। ৩৬৫ দিনই এই তরমুজগুলো বাজারে পাওয়া যাবে। তবে অন্যান্য তরমুজের চেয়ে এর দাম বেশি। তিনি জানান, এই তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি দুই’শ টাকার উপরে।
মাঠে চাষেও ভিন্নতা দেখা মেলে। অন্যান্য তরমুজ মাটির সাথে লাগোয়া হলেও সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ ভিন্ন। এটি মাটিতে থেকে উপরে মাচার সাথে ঝুলিয়ে থাকে। মাটির সাথে কোনো সংস্পর্শ নেই। সেই সাথে মালছিং পেপার ব্যবহার করতে হয়। মালছিং পেপারের কারণে প্রতিদিন পানি দেওয়া লাগেনা। একদিন দেয়া হলে মালছিং পেপার পানি ধরে রেখে, পরিমাণ মতো সরবরাহ করে থাকে। বলতে গেলে আধুনিক পদ্ধতির এই চাষ। ওই যুবক লাভ লোকসানের কথা চিন্তা না করে শখের বসে কাজ শুরু করলেও আশানুরূপ লাভজনক হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই আগামীতে আরো বিশালাকারের এই চাষ করার কথাও জানান  তিনি। তাছাড়া পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলাতে ওই রকম অর্থাৎ সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ কোথাও করা হয়নি বলেও জানা গেছে। বেশ কয়েকজন উপঃ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

dav

আশে পাশের লোকজন ক্ষেত দেখতে ভীড় জমান। প্রতক্ষদর্শীরা বলেন, নতুন জাতের তরমুজ ও নতুন পদ্ধতির চাষ দেখতে তারা ক্ষেতে ছুটে আসেন। স্থানীয় তুরুন ব্যবসায়ী এফ. আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী চাষ দেখতে নিজেও ছুটে আসার কথা জানিয়ে বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এই নতুন ধরনের চাষ মানুষের পুষ্টির অভাব লাগব করবে। আগামীতে তারও এই চাষ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপঃ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এই চাষটি কক্সবাজার জেলার প্রথম চাষ। এই পর্যন্ত জেলার কোথাও করেছে বলে তার জানা নেই। এই চাষে নিয়মিত কারিগরি সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপজেলায় অনেক জায়গা খালি রয়েছে। বিশেষ করে যুবকরা মাদক ব্যবসা থেকে সরে এসে চাষ বা ক্ষেত খামার করা হলে, উভয়পক্ষ অর্থনীতিভাবে স্বাবলম্বী হওয়া কোনো ব্যাপরা না। অর্থাভাবে কৃষিকাজ করতে সমস্যা হলে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, জেলার কোথাও সুইট বেবি জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে কিনা তার জানা নেই। তবে উত্তরবঙ্গের দিকে হয়ে থাকে। যেহেতু এইখানে প্রথম। এই ক্ষেতকে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভালোমন্দ নজরে রেখে কারিগরি সাপোর্ট দেয়া অব্যাহত রয়েছে। এই রকম যারা করবেন, তাদেরকেও অবশ্যই কারিগরি সাপোর্ট দেয়া হবে।
নাফ বার্তা/ এপ্রিল ৯,

আর্কাইভ
April 2021
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

ফেইসবুকে আমরা