বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের জিন রহস্য উন্মোচনের দাবি করল সিএইচআরএফ

 ২০২০-০৫-১৩ ১৭:০০:৫০   বিভাগ: জাতীয়

নাফবার্তা ডেস্ক[]

বাংলাদেশে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের (সার্স সিওভি-২) জিনোম সিকোয়েন্স বা জিন রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

এরইমধ্যে জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য-উপাত্ত গ্লোবাল জিনোম ডেটাবেইজে (জিআইএসএআইডি) জমা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএইচআরএফ জানিয়েছে, অনুজীববিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহার নেতৃত্বে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ঢাকার গবেষণাগারে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পুরো কাজ হয়েছে। এই সিকোয়েন্সিং-এর সম্পূর্ণ কাজটি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন তাদের ঢাকার ল্যাবে সম্পন্ন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারাই সর্বপ্রথম এ জিনোম সিকোয়েন্সের কাজ শেষ করেছে। এর ফলে ভাইরাসটির গতি প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারবেন গবেষকরা।

জিনোম হলো প্রাণি বা উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। কোনো প্রাণি বা উদ্ভিদের জিনোমে নিউক্লিওটাইডগুলো কীভাবে বিন্যস্ত আছে তার লিপিবদ্ধ করাকে বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। এই নকশার ওপরই নির্ভর করে ওই প্রাণি বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সাধারণত ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং করা কিছুটা দুঃসাধ্য। সেখানে নভেল করোনাভাইরাসের মতো একটি সংক্রমণশীল ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং করা খুবই কঠিন।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে মেটাজিনোমিক সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছে।

আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই বাংলাদেশের আরও কিছু স্থানের নমুনা থেকে আরও কিছু ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং করতে সক্ষম হব, যা আমাদের ভাইরাসটির উৎপত্তি, গতি প্রকৃতি বুঝতে ও প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে সহায়তা করবে।”

এই কাজে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং চ্যান
জুকারবার্গ বায়োহাব/ইনিশিয়েটিভ সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. সমীর কুমার সাহা বলেছেন, “জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলে ভাইরাসটির গতি, প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

এর ফলে আমরা জানতে পারব, আমাদের এখানে ভাইরাসটি মোকাবেলায় কোন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এখানে বড় বিষয় হল, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশে বসে সিকোয়েন্সিংটা করেছে। তার মানে হল, বাংলাদেশে এই ভাইরাসের আরও সিকোয়েন্সিং করা যাবে।

আমরা হয়ত আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও অনেক সিকোয়েন্সিং করে আপনাদের বলতে পারব। আমরা যখন আরও সিকোয়েন্সিং করতে পারব তখন বুঝতে পারব, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা কোন ওষুধ কতটা কাজ করবে।”

এখানে যে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে তার সঙ্গে রাশিয়া ও সৌদি আরবের ভাইরাসের মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।


আর্কাইভ
মে ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল   জুন »
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

ফেইসবুকে আমরা