সেন্টমার্টিনে কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি,আতঙ্কে পর্যটকরা

 ২০২০-০১-৩০ ২১:৫৯:৫৯   বিভাগ: পর্যটন

হারুন সিকদার, নাফবার্তা[]

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ব্যপকভাবে বেওয়ারিশ কুকুর বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কুকুর প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও আক্রমন ও ক্ষতি করে যাচ্ছে। সে হিসেবে পর্যটকদের প্রতিটি আনন্দঘন মুহুর্তকে আতঙ্কে পরিণত করছে এসব কুকুর। ফলে নতুন পুরাতন পর্যটকরা এসব কুকুর আতঙ্কে চলাফেরা করছে।
জানা গেছে, দেশের সর্ব দক্ষিণ উপজেলা টেকনাফের বিস্তির্ণ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এ দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে জল পথ। সাগর বেষ্টিত ও একমাত্র প্রবালদ্বীপ হওয়ায় দেশ বিদেশ থেকে এ দ্বীপটি দেখার জন্য ছুটে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরা। কিন্তু এ পর্যটন দ্বীপে একাধিক সমস্যার মধ্যে অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা, যত্রতত্র বিচরণ , মালামালের ক্ষয়ক্ষতি , স্থানীয় ও পর্যটকদের আক্রমণ একটি বিরাট সমস্যার মুখোমুখি হওয়া অন্যতম। দ্রুত এসব বেওয়ারিশ কুকুর গুলোকে নিধন করা না গেলে স্থানীয় ও পর্যটকদের ক্ষয়ক্ষতি ও আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন এসব কুকুর চলতি পর্যটন মৌসুমেও বেশ কয়েকজন পর্যটককে কামড় দিয়ে আহত করা হয়েছে। এসব পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ না করে তাদের চিকিৎসা নিতে দ্রুত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সরেজমিন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ট। সেই সাথে দূর দুরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা এক সাথে এতসব কুকুর দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আনন্দঘণ মুহুর্তটি তাৎক্ষনিক ম্লান হয়ে যায়। প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের সাগর বেষ্টিত দ্বীপটির যেখানে সেখানে কুকুরের দেখা মিলে। সৈকতে, হোটেলে মোটেলে প্রতিনিয়ত দল বেধে এসব কুকুর বিচরণ করে থাকে। লোক সংখ্যা কম হলেও সেখানে আক্রমণ করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বা পর্যটক কোনো কেনা কাটা বা যে কোনো ধরণের থলে হাতে নিলে খাবার মনে করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরদের বেশ আতঙ্কে চলাফেরা করতে হয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে দুঃখ করে বলেন, ৫ থেকে ৬ হাজার কুকুর প্রতিনিয়ত স্থানীয় ও পর্যটকদের ক্ষতি করে চলেছে। যে সব পর্যটক কুকুর ভয় করে তারা নিঃসন্দেহে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ কমিয়ে দেবে। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে ও দ্বীপ নির্ভর ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তিনি আরো বলেন কিছুদিন আগে সেন্টমার্টিন পশ্চিম পাড়ার ওসমান গণি, মাঝের পাড়ার ছব্বির আহমদকে কুকুর আক্রান্ত বা কামড়ের শিকার হন। তাদের বেশ কিছু দিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ ছাড়া লোকজন নামাজ পড়তে পারে না এসব দলবদ্ধ কুকুরগুলোর জন্য। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দ্বীপের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ দুঃখ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে একাধিকবার বলা হয়েছে। এর পরেও কোনো সুরাহা মিলছেনা। এসব কুকুর প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মারাত্বকভাবে ক্ষতি করছে। দ্রুত এসব বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করা জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ মুঠোফোনে জানান, উপজেলায় যোগদান করেছি কেবল। কুকুরের উপদ্রবের বার্তা পাওয়ার পর পরিবেশ মতো নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কুকুর স্থানান্তর করা হয়েছে। এ নিধন পদেক্ষপ শিগগিরই গ্রহণ করা হবে।


আর্কাইভ
জানুয়ারি ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর   ফেব্রুয়ারি »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেইসবুকে আমরা