মহামানবের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী আজ

 ২০১৯-০৮-০৪ ০৭:০০:৩২   বিভাগ: এক্সক্লুসিভ

দিনটি ছিল বুধবার, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ । গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ পরিবারে শেখ লুৎফর রহমান ও সাবেরা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম গ্রহণ করে এক শিশু ।কে জানতো, সে শিশু একদিন হয়ে উঠবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি , রুপকথার এক মহানায়ক, যার ভাষণে রচিত হবে অলিখিত এক মহাকাব্য । যার তর্জনীর ইশারা নাড়িয়ে দিবে ৭ কোটি বাঙালিকে । তিনি হয়ে উঠবেন বাঙালি জাতির মুক্তির দূত।

সেই মহামানব, বাংলার খোকা । তিনি আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্থপতি । তিনি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ।

১৭ মার্চ বাঙালি জাতির জন্য তাই বিষেশ একটি দিন। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের পাশাপাশি এ দিনটিকে ‘জাতিয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করে বাঙালি জাতি।

মহামানব বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ফিদেল কাস্ত্রো বলেন : ‘‘ আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি । ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয় ।

টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিব ১৯২৭ সালে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল।

গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর মানুষের প্রতি ভালবাসা ছিল অপরিসীম । সহপাঠী থেকে শুরু করে আশেপাশে থাকা সব মানুষের বিপদে তিনি এগিয়ে যেতেন । কখনো বৃষ্টির দিনে বন্ধুকে ছাতা দিয়ে নিজে ভিজে ঘরে ফিরেছেন , কখনো শীতের কাপড় কোন গরীব দুঃখীকে দিয়ে তিনি নিজে শীতে কষ্ট পেতেন । বাংলার প্রতিটি মানুষের দুঃখ-কষ্ট তিনি অনুভব করতেন । বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি বলতেন- “কোন জুলুমই আমাকে টলাতে পারেনি , কিন্তু মানুষের ভালবাসা আমাকে বিব্রত করে তুলেছে “।

শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এ বছর স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি র মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তিতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবীর উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই।

১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। সেখানে তিনি এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সনে এনট্র্যান্স পাশ করার পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। এই কলেজ থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অগ্রণী কাশ্মিরী বংশদ্ভুত বাঙালি মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন। এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন।

১৯৪৩ সনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্ভরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন দল বিজয়ী হয়েও রাস্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারেনি । রাজনীতিতে সৎ থাকা এই মানুষটা রাজনীতিবিদ নিয়ে বলেন- “অযোগ্য নেতৃত্ব নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতবিদদের সাথে কোনদিন একসাথে হয়ে দেশের কাজ কাজে নামতে নেই । তাতে দেশসেবার চেয়ে জনগণের সর্বনাশই বেশী হয় ।”

ছাত্র বয়স থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তাই বিভিন্ন্ সময়ে তিনি কারাবরণ করেন । এই মানুষটি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন । আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন – “আন্দোলন গাছের ফল নয় । আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না । আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয় । । আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী হতে হয় । ত্যাগী মানুষ হওয়া দরকার আর সর্বোপরি জণগণের সংঘবদ্ধ ও এক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার ।’’

বঙ্গবন্ধুর ১৮ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিয়ে হয়। তাদের ২ মেয়ে – শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন ছেলে- শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ।

“আমি তোমাদের জন্য সব ত্যাগ করতে পারি , তোমাদের ভালবাসা আমি ত্যাগ করতে পারিনা” বলা মানুষটিকে এদেশের কিছু বিপথগামী মানুষের হাতে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট মাত্র ৫৫ বছর বয়সে সপরিবারে নৃশংসভাবে খুন হন ।

মৃত্যুর ৪৪ বছর পরেও বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতা বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনায় রয়ে গেছেন । খুনিরা বঙ্গবন্ধুর দেহটাকেই শুধু খুন করতে পেরেছে। কিন্তু কোটি বাঙালির মন থেকে মুছতে পারেনি তাঁর নাম। তাঁর চিন্তা-চেতনা এখনো জাতিকে করে অনুপ্রাণিত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের খুব ভালবাসতেন কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত । তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ বাংলাদেশের সব শিশুর হূদয়ে পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন । তাঁর আলোতে আলোকিত হোক প্রতিটি শিশু— এটাই শিশু দিবসের প্রকৃত প্রত্যাশা।


আর্কাইভ
আগষ্ট ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    সেপ্টেম্বর »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেইসবুকে আমরা